মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

যারা নতুন/এবছরই প্রথমবার রিটার্ন জমা দিচ্ছেন

 

** যাবতীয় সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তথ্য দিবেন যা পরের বার সংযুক্ত করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে,
** বেতন খাতে আয়ের ক্ষেত্রে পারকুইজিট হিসেবে কি কি সুবিধা পাবেন ভালো করে জেনে নিন,
** আগামী বছর কোনো সম্পদ কেনার পরিকল্পনা থাকলে চলতি বছরের ফাইলে পরিকল্পনা রাখুন ,
** সকল কাগজপত্রের এককপি এবং রিটার্নের এক কপি ফটোকপি অবশ্যই রাখবেন নিজের কাছে,
** অনলাইনে রিটার্ন জমাদানের আগে এক্সেলসিটে কিংবা হাতে-কলমে আগেই হিসেব মিলিয়ে নিন,
** না বুঝে অনুমান নির্ভর অনলাইন 'সাবমিট' করে ফেলবেন না, একবার সাবমিট প্রেস করলে আর আনডু করার সুযোগ নেই তাই সময় নিন। এটি একটি আইনগত বিষয়, ফেসবুক কিংবা টুইটারে একাউন্ট খোলা নয়; অডিটে পড়লে যাবতীয় ডকুমেন্টস সরবরাহ করতে হবে ,
**পরামর্শক দিয়ে ফাইল করলে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ক্যালকুলেশন ও ব্যাখ্যা সাধ্যমতো বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবেন,
** আয়কর রিটার্ন স্লিপ ও সার্টিফিকেটে আপনার সার্কেল ও জোনের সিলসহ সাইন পড়েছে কি না দেখে নিন,
** একবার রিটার্ন দেওয়ার পর ব্যাংকিং লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন যা পরবর্তী বছরে কাজে লাগবে,
** নিজের ফাইল নিজে করতে পারলে সবচেয়ে ভালো, অন্যথায় কম্পিউটারের দোকান কিংবা কম টাকায় অদক্ষ কাউকে দিয়ে রিটার্ন ফাইল না করিয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ আয়কর পরামর্শকের সহায়তা নিন।

বাবা তার মেয়েকে হেবা দলিলের মাধ্যমে ফ্ল্যাট গিফট করলে কোথায় দেখাবে এবং কিভাবে লিখবে ?

 

Ans: সম্পদ দায় বিবরণীতে, আপনি সম্পদ হিসেবে দেখাবেন আর other receipt, Source নামক কলামে গিফট  Received from Father হিসেবে দেখাবেন। আপনি যেহেতু বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন তাই এই সম্পদ কর অব্যহতি আয় ও সম্পদ। কিন্তু আপনার বাবাকে গিফট Tax  দিতে হবে যেহেতু বাবা মেয়েকে দান করেছেণ।

মায়ের নামে জমির দলিল করার জন্য টিন করা হয়েছে। সে একজন গৃহিণী। এখন কি তাকে রিটার্ন সাবমিট করতে হবে?

 রিটার্ন দাখিল করতে হবে।  করযোগ্য আয় না থাকলে জিরো রিটার্ন দাখিল করবেন।

আমি ইতোমধ্যে ম্যানুয়ালী/অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছি। রিটার্ন দাখিলের পর কিছু ভুল তথ্য/হিসাব দেখতে পাচ্ছি, করণীয় কি?

 

Ans: রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ভুল ধরা পেয়ে থাকলে ৮২বিবি(ধারায় সংশোধিত রিটার্ন দাখিল 
করা যায়। তবে তার পূর্বে রিটার্নটি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে সংশেধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে না।
সংশোধিত রিটার্নটি আপনি প্রযোজ্য সকল সংশোধন করে এর প্রথম পাতার উপর ‘82BB (5) ধারায় ভুল সংশোধনী রিটার্ন ' মার্ক করে এবং প্রতিটি ভুলের প্রকৃতি  কারণের একটি লিখিত বিবরণ সংযুক্ত করবেন (ছবি সংযুক্ত) অতিরিক্ত কর পরিশোধ প্রযোজ্য হলেচালান/পে-অর্ডার মারফত আয়কর পরিশোধ করে তা সংযুক্ত করবেন।
অনলাইনে রিভাইজ রিটার্ন দাখিল করা যায় না। যারা অনলাইনে দাখিলকৃত রিটার্ন এর রিভাইজ রিটার্ন সাবমিট করতে চান, তাঁরা সংশ্লিষ্ট সার্কেলে ম্যানুয়ালী রিভাইজ রিটার্ন জমা দিবেন।

আমি যদি কিছু টাকা দিয়ে একটি জমি মেদি/কট/ভূতে রাখি সেক্ষেত্রে রিটার্নে কোথায় কিভাবে দেখাতে হবে?

 

Ans: জমিতে অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি পত্রের কপি জমা দিবেন। আয়কর রিটার্ন ফর্মের বিনিয়োগের ঘরে লিখবেন।

চলতি বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র -(Required documents for submission of Income Tax return)

 

ব্যক্তিগত তথ্য :
1. ই-টিন সার্টিফিকেট ফটোকপি
2. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
3. পাসপোর্ট সাইজ ফটো এক কপি।
চাকরির তথ্য :
1. বেতন বিবরনী (অফিস কর্তৃক) (০১/০৭/২০২১ থেকে ৩০/০৬/২০২২)
2. ব্যাংক হিসাব বিবরনী (০১/০৭/২০২১ থেকে ৩০/০৬/২০২২)
3. উৎসে কর কর্তন সার্টিফিকেট
4. প্রভিডেন্ট ফান্ড সার্টিফিকেট (যদি থাকে)
গৃহ সম্পত্তি হতে আয় থাকলে:
1. বাড়ী ভাড়ার প্রাপ্ত রশিদ
2. বাড়ী ভাড়ার চুক্তিপত্র
3. বাড়ী ভাড়ার টাকা ব্যাংকে নিয়ে থাকলে ব্যাংক বিবরনী
4. হোল্ডিং ট্যাক্স ও ভূমি কর/খাজনা
ব্যবসায়ের তথ্য:
1. ট্রেড লাইসেন্স
2. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী
3. সম্পদ ও দ্বায় বিবরনী
4. ব্যাংক হিসাব বিবরনী (০১/০৭/২০২১ থেকে ৩০/০৬/২০২২)
বিনিয়োগের তথ্য:
1. ডিপিএস (যদি থাকে)
2. ইন্সুরেন্স সার্টিফিকেট (যদি থাকে).
3. শেয়ার মার্কেট বিনিয়োগ (যদি থাকে)
4. সঞ্চয় পত্র সার্টিফিকেট (যদি থাকে)
সম্পদ ও দায় বিবরনীঃ
1. হাউস, এপার্টমেন্ট (যদি নিজ নামে থাকে)
2. জমি, গাড়ী, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিকসস ইত্যাদি।
(যদি নিজের নামে থাকে)
3. ব্যাংক ঋণের তথ্য (যদি নিজ নামে হয়)
4. অন্যান্য ঋণের তথ্য (যদি নিজ নামে হয়)।
যারা প্রতিবছর রিটার্ন জমা দেন তাদের বিগত বছরের রিটার্ন জমার কপি।
বিঃদ্রঃ (যাহার জন্য যাহা প্রযোজ্য)

অবসরকালীন জিপিএফ (GP Fund) থেকে চূড়ান্ত উত্তোলিত অর্থের ওপর আয়কর আরোপ হবে কিনা?

 

জিপিএফ এর টাকা বেতন থেকে কেটে জমা করা হয় । কাটার আগে বেতন থেকে উৎসে কর কর্তন করা হয় । পরবর্তীতে রিটার্ন দেয়ার সময় গ্রস বেতন ভাতার উপর প্রদেয় কর নির্ধারণ করা হয়। প্রদেয় কর থেকে উৎসে কর্তনকৃত কর বাদ দিয়ে বাকিটা চালানে পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ জিপিএফ এর টাকা কর পরিশোধিত আয় থেকে বিনিয়োগ, এবং সরকারের নিকট বিনিয়োগকৃত সম্পদ।
এ বিনিয়োগের উপর রিবেট পাওয়া যায় । এটি সম্পদ বিবরনীতে বিনিয়োগ হিসেবে আসবে । আর এটির উপর সরকার যে লভ্যাংশ বা সুদ দেয় ১৪.৫০% হারে তা করমুক্ত ।
কাজেই উত্তোলন বা নগদায়নের সময় আলাদা ভাবে আর কোন আয়কর দিতে হবে না, তখন এটা সম্পদ নগদায়ন করা হয়, এটি আয় নহে।
সরকারি চাকরি জীবিদের জিপিএফ এর টাকা হতে উৎসে কর কর্তন হয় না। জিপিএফ এর টাকা সম্পুর্ন আয়কর মুক্ত ।

জিপিএফ এর দুটো অংশ, প্রথম মূল বিনিয়োগ যা বেতন থেকে মাসভিত্তিক কর্তন করা হয়, দ্বিতীয় লভ্যাংশ বা সুদ যা বৎসর শেষে গত ৩০ জুনের স্থিতির উপর নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয় ।
বিনিয়োগ অংশ মূল বেতন থেকেই আসে, এটি করযোগ্য, কারন পুরো বেতনই করযোগ্য, অন্যদিকে লভ্যাংশ (বেতনের ১/৩ অংশ এবং ১৪.৫% সুদ এর মধ্যে যা কম), তা সরকার সুদ মুক্ত ঘোষণা করেছে 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কিছু সরকারি ও বেসরকারি সেবাগ্রহণে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৯টি সেবার জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যার ফলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে আগে আয়কর...