১. Bearer বা বহনকারী চেক:
এই ধরণের চেকে যে চেকটি বহন করছে, তাকে সরাসরি অর্থ প্রদান করা হয়। এই চেকগুলোর ডেলিভারির মাধ্যমে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। অর্থাৎ, চেকটি ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া হলে আপনাকে সরাসরি অর্থপ্রদান করে দেওয়া হবে৷ এখানে, ব্যাঙ্ককে সেই ব্যক্তিকে টাকা দিতে হলে, চেকটির ইস্যুকারীর কাছ থেকে কোনোরকমের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন থাকে না ৷ আর, এই চেক সনাক্ত করার সহজ উপায় হল এই যে, এতে ‘অর বিয়ারার’ (‘or bearer’) শব্দ দুটো লেখা থাকে।
২. Order চেক:
অর্ডার চেকগুলোতে ‘or bearer’ শব্দগুলোকে বাতিল করা হয়। এই চেকগুলো শুধুমাত্র সেইসব ব্যক্তিকেই টাকা দিতে সম্মত হয়, যার নামে চেকটি লেখা হয়েছে। আর, ব্যাঙ্ক থেকে পেমেন্ট দেওয়ার আগে চেক ড্রয়ারের পরিচয় প্রমাণীকরণের জন্য ব্যাঙ্ক তার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে শুনে তবেই পেমেন্ট করে থাকে।
৩. Crossed চেক:
আপনি এই ধরণের চেকের উপরের বাম দিকে লেখা ‘a/c payee’ শব্দের সাথে দুটি ঢালু সমান্তরাল লাইন দেখতে পাবেন। এই লাইনগুলো নিশ্চিত করে যে, যার নামে চেকটি লেখা হয়েছে, কেবল তার নামেই অর্থ প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি এই প্রদেয় টাকা কোনোভাবেই পাবেন না।
কারণ, এই ধরণের চেকগুলোতে যাকে টাকা দেওয়া হবে, সেই প্রাপকের নামসহ তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরও যুক্ত করতে হয়। আর, প্রাপকের দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরেই পাঠানো টাকাগুলো সরাসরি চলে যায়। এই চেকগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কারণ; এখানে শুধুমাত্র প্রাপকের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বরেই পাঠানো সম্ভব।
৪. Open চেক:
একটি ওপেন চেক হল মূলত ক্রসড চেকগুলোর বিপরীত।
এই ওপেন চেকগুলো থেকে টাকা যেকোনো ব্যাঙ্ক থেকেই তোলা যায় ও যে এই চেকগুলো বহন করছে, তাকেই অর্থ প্রদান করতে হয়। মূল প্রাপকের (পেমেন্টের আসল প্রাপক) থেকে এই ধরণের চেকগুলো সহজেই অন্য প্রাপকের কাছে হস্তান্তরযোগ্য। তবে, এখানে ইস্যুকারীকে চেকের সামনে-পিছনে উভয় দিকেই তার স্বাক্ষর দিতে হয়।
৫. Post-Dated চেক:
এই ধরনের চেকে ইস্যুকারীরা টাকা নগদ করার জন্যে অদূর ভবিষ্যতের কোনো একটা নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে থাকে। এমনকি, বহনকারী যদি এই চেকটি পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যাঙ্কে নিয়ে যায়, তা সত্ত্বেও, ব্যাঙ্ক শুধুমাত্র চেকে উল্লেখিত তারিখেই তাকে অর্থপ্রদান করতে পারবে, তার আগে নয়।
তাই, এই চেকগুলো উল্লিখিত তারিখের পরেই বৈধ হয়, তার আগে নয়।
৬. Stale চেক:
ইস্যু করা তারিখের তিন মাস পরে বৈধতা পেরিয়ে গেলে একটি চেক এক্সপায়ার্ড হয়ে যায় বা সেটা অবৈধ বা স্টেল চেকে পরিণত হয়।
৭. Travellers চেক:
বিদেশীরা অন্য দেশে ছুটি কাটাতে গেলে অনেক সময় হার্ড ক্যাশের জায়গাতে ভ্রমণকারী বা ট্রাভেলার্স চেক বহন করে। এই চেকগুলি তাদের ব্যাঙ্ক দ্বারা জারি করা হয় আর অন্য দেশে অবস্থিত অন্য কোনো ব্যাঙ্কে মুদ্রার আকারে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এই ধরণের চেকের মেয়াদ কখনোই শেষ হয় না আর ভবিষ্যতে যেকোনো দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করা যায়।
৮. Self চেক:
আপনি ড্রয়ী কলমে ‘self’ শব্দটি লিখে একটি চেককে সেলফ চেকে রূপান্তরিত করতে পারেন।
আর, এই চেকগুলো শুধুমাত্র ইস্যুকারীর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থাকা ব্যাঙ্কেই ব্যবহার করা সম্ভব।
৯. Bank চেক:
একটি ব্যাংক এই ধরনের চেকের ইস্যুকারী। ব্যাংক এই চেকগুলো তার একজন অ্যাকাউন্টধারীর পক্ষ থেকে একই শহরের অন্য আরেকজনকে অর্থ প্রেরণ করার জন্য ইস্যু করে। এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়, তারপর, চেকটি ব্যাংক দ্বারা জারি করা হয়। এই কারণেই ব্যাংকারের চেকগুলো যেকোনো সন্দেহের উর্ধে থাকে আর এগুলো অবজ্ঞা করার ক্ষমতা ব্যাংকের নেই। মূলত, এই চেকগুলোও তিন মাসের জন্য বৈধ থাকে।
