বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১

সমস্যা- আয়কর রিটার্নের হিসাব না মিললে কি হয়? অর্থাৎ পুরাতন ফরমে আইটি১০বি ক্রমিক-১৮ এবং নতুন ফরমে আইটি ১০বি ২১৬ ক্রমিক -২২ শূন্য না হলে কি হয়? আয়কর হিসাব কিভাবে মিলাব?

প্রথমেই একটা উদাহরন দিয়ে শুরু করি, মনে করেন আপনি কোন দিন ১২০ টাকা আয় করলেন, দিন শেষে খরচ করলেন ৮০ টাকা, আপনার হাতে কত থাকবে?? আপনি যদি বলেন হাতে ৬০ টাকা রয়েছে। তাহলে কি ঠিক হলো?? অর্থাৎ আপনার আয় হিসাব করতে আপনি ভুল করেছেন। অন্য কোথাও থেকে আপনি ২০ টাকা আয় করেছেন। যা আপনার হিসাবে আনেন নাই। অর্থাৎ আপনার আয় ছিল ১৪০ টাকা আর খরচ ছিল ৮০ টাকা এবং হাতে ছিল ৬০ টাকা।

এক্ষেত্রে, আয়কর অফিস আপত্তি দিবে, আপনার মোট আয় ১৪০ টাকা ছিল। আপনি ১২০ টাকার উপর কর দিয়েছেন, অতিরিক্ত ২০ টাকা আয়ের উপর কোন কর দেন নি। আয়কর অফিস আপনার ২০টাকা উপর অপরিশোধিত কর আরোপ করে নোটিশ জারী করবে।
আবার একই ভাবে মনে করেন আপনি কোন দিন ১২০ টাকা আয় করলেন, দিন শেষে খরচ করলেন ৮০ টাকা, আপনার হাতে কত থাকবে?? আপনি যদি বলেন হাতে ৩০ টাকা রয়েছে। তাহলে কি ঠিক হলো?? অর্থাৎ আপনার ব্যয় হিসাব করতে আপনি ভুল করেছেন। অর্থাৎ আপনি আরও ১০ টাকা কোথাও খরচ করেছেন যা আপনার ব্যয়ে আনেননি। অর্থাৎ আপনার আয় ছিল ১২০ টাকা আর খরচ ছিল ৯০ টাকা এবং হাতে ছিল ৩০ টাকা।
এক্ষেত্রে, আয়কর অফিস কোন আপত্তি দিবে না, কারণ আপনি অতিরিক্ত আয় করেন নাই। আপনার আয় ১২০ টাকা ছিল। পুরো টাকারই কর পরিশোধ করেছেন। শুধু খরচ কম দেখিয়েছেন। যে ১০ টাকা ঘাটতি ছিল তা আপনার খরচ হিসাবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে আয়কর অফিস আপনাকে কোন নোটিশ জারী করবে না বা আপত্তি দিবে না।
হিসাব যাহাই হোক পুরাতন ফরমে-১৮ এবং নতুন ফরমে-২২ এর মান অবশ্যই শূন্য হতে হবে। নচেৎ আপনার হিসাব ভুল বলে বিবেচিত হবে।
#Tax_zero

যারা প্রথমবার অনলাইন আয়কর রিটার্ন জমা দিবেন,

প্রথম আয়কর রিটার্নে কি কি দেখাতে হবে? অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, সম্পদ কম দেখাতে হবে, অথবা আগের সঞ্চয়পত্র দেখালে আয়কর বেশি দিতে হবে ইত্যাদি। অনেকেই আমাদের কাছে বলেন যে ভুল করে প্রথম রিটার্নে জমি দেখান নি, বিভিন্ন অতীত বিনিয়োগ দেখান নি এখন কি করবেন?

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য, প্রথমবার যারা অনলাইন আয়কর রিটার্ন দিবেন তারা অবশ্যই তাদের অতীত সম্পদ এবং সঞ্চয় দেখিয়ে দিবেন। কিছু কম দেখালেও আপনি সমস্যায় পড়বেন আবার কিছু বেশি দেখাতে গেলেও আপনার বিপদ হতে পারে। তাই, আপনার যা আছে আপনি তাই দেখাবেন।
প্রথমবার অনলাইন আয়কর রিটার্নে অবশ্যই নিচের কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন।
১। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনার নিজের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করবেন অবশ্যই বায়োমেট্রিক করা থাকতে হবে।
২। লেপটপ বা ডেক্সটপ পিসি ব্যবহার করবেন।
৩। আগে থেকে ড্রাফট রিটার্ন করে থাকলে খুব ভাল হয়।
৪। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে কাজ করবেন। (যদিও এখন ডকুমেন্ট সংযুক্ত করা লাগে না)
৫। আপনার আয়সমূহ সঠিক ভাবে ইনপুট দিবেন।
৬। আপনার হাতে অর্থাৎ বাসায় যত টাকাই নগদ থাকুক না কেন, সেটা দেখিয়ে দিবেন।
৭। আপনার অতীতে কোন বিনিয়োগ যেমন- সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা স্থায়ী আমানত থাকলে সেটা দেখিয়ে দিবেন।
৮। আপনার নামে যেকোনো জমি বা ফ্লাট (পৈতৃক সম্পত্তি বা নিজের কেনা) থাকলে সেটি দেখিয়ে দিবেন।
৯। আপনার নামে কোন গাড়ি, মোটর বাইক বা যেকোনো সম্পদ থাকলে সেটি দেখিয়ে দিবেন ।
১০। আপনার কাছে যে পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, সেটি দেখিয়ে দিবেন।
উপরে উল্লিখিত যেকোনো সম্পদ যদি আপনার কাছে থাকে, তাহলে সেটি দেখাবার পাশাপাশি অবশ্যই তার আয়ের উৎস ব্যখ্যা করে দিবেন এবং তার স্বপক্ষে যথার্থ প্রমাণ সংযুক্ত করে দিবেন। সবকিছু ঠিকঠাক মত হলে রিটার্ন সাবমিট করুন। রিটার্ন সাবমিটের সাথে সাথে সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।
 #tax #etax#etaxreturn#etaxnbr

#incometax#taxdoc#আয়কর রিটার্ন দেবার জন্য যে সব কাগজ প্রয়োজন তা হলো :

১) আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ

২) ১ কপি ছবি (৪ বছর পর প্রতি ৫ তম বছরে)
৩) চাকুরিজীবী হলে বেতন বিবরনী।
৪) ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, বীমা, শেয়ার/ ডিভেঞ্চার এবংঅন্য কোথাও অর্থ গচ্ছিত থাকলে (সরকার অনুমোদিত) তার ডকুমেন্ট। গত অর্থ বছরে মোট বিনিয়োগ।
৪) ব্যাংক বিবরনী।
৫) জমি জমা থাকলে তার বিবরনী।
৬) মোটর সাইকেল ব্যতিত অন্য কোনো ভারী যান থাকলে ডকুমেন্ট। (এই ক্ষেত্রে জীপ ও মাইক্রবাস)
৭) অগ্রিম কর বা উতসে কর কাটলে তার ডকুমেন্ট যেমনঃ সঞ্চয় পত্র হতে প্রাপ্ত লাভ এর কর, উহার ডকুমেন্ট।
৮) চালান/ পে অডার/ ব্যাংক ড্রাফট/ ক্রস চেক(আপনার সার্কেল অনুযায়ী)
৯) TIN এর ফটোকপি
১০) NID এর ফটোকপি
১১) ৫ লাখ টাকার উপরে টাকা লেনদেন করলে ব্যাংক চেনেলের মাধ্যমে করতে হবে, তার ডকুমেন্ট
১২) ব্যাংক লোন থাকলে উহার ডকুমেন্ট

#vat#ভ্যাট আইনে "বৃদ্ধিকারী সমন্বয়"

মূলত বৃদ্ধিকারী সমন্বয় হলো কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি তার মূসক দাখিলপত্রে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদে কত ভ্যাট হয়েছে তা হিসেব করবে৷ এরপর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রদেয় ভ্যাটের সাথে বৃদ্ধিকারী সমন্বয় বা হ্রাসকারী সমন্বয় করবে। প্রদেয় ভ্যাট এর সাথে যোগ করাকে বৃদ্ধিকারী সমন্বয় এবং প্রদেয় ভ্যাট থেকে বিয়োগ করাকে হ্রাসকারী সমন্বয় বলে।

এই ক্ষেত্রে কি কি বিষয় সমন্বয় হবে তা ধারা -২(৭২) এ উল্লেখ করা হয়েছে।
[ধারা-২(৭২)] অনুযায়ী,
‘বৃদ্ধিকারী সমন্বয়’ অর্থ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্র গুলো বর্ণনা করা হলোঃ
১. উৎসে কর্তিত করের বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
২. বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়নের ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৩. ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ না করিবার ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৪. ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত (private use) পণ্যের ক্ষেত্রে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৫. নিবন্ধিত হওয়ার পর বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৬. নিবন্ধন বাতিলের কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৭. মূসক হার পরিবর্তিত হওয়ার কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৮. পূর্ববর্তী যে কোন কর মেয়াদে কম পরিশোধিত মূসকের বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৯. সুদ, জরিমানা, অর্থদণ্ড, ফি, বকেয়া কর ইত্যাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
১০. নির্ধারিত অন্য কোন বৃদ্ধিকারী সমন্বয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কিছু সরকারি ও বেসরকারি সেবাগ্রহণে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৯টি সেবার জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যার ফলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে আগে আয়কর...