শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

আমি ইতিপূর্বে রিটার্ন জমা করেছি কিন্তু ভুলে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয় পত্র রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। এক্ষেত্রে করনীয় কি?

 উত্তরঃ সর্ব শেষ আয়কর রিটার্ন এ উক্ত বিনিয়োগ প্রদর্শন করতে হবে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ১৯ অনুযায়ী অব্যাখ্যায়িত বিনিয়োগের অংক প্রাপ্তি বা অর্জনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদর্শন করবেন। ব্যাখ্যা যদি উপ কর কমিশনার সন্তোষজনক মনে না করেন সে ক্ষেত্রে করদাতার প্রদর্শিত অংকটিকে আয় হিসাবে গণ্য করা হবে। এবং উক্ত আয় অন্যান্য সূত্রের আয় হিসেবে শ্রেনীবদ্ধ হবে।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর (৪)
কোন কর নির্ধারণী বছরের অব্যবহিত পূর্ববর্তী অর্থ বছরে করদাতা যদি এমন কোন বিনিয়োগ করেন যে উক্ত বিনিয়োগ বিষয়ে তার হিসাব বহি, যদি থাকে, তাতে কোন হিসাব উল্লেখ করা হয়নাই এবং করদাতা উক্ত বিনিয়োগের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে না পারেন অথবা প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক মনে না করেন তবে সেই বিনিয়োগ অংক করদাতার অন্যান্য সূত্রের আয় হিসেব গণ্য করা হবে।
অর্থাৎ ৫ লাখ টাকার অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ প্রদর্শন পূর্বক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করা গেলে উপ কর কমিশনার উক্ত বিনিয়োগকে গ্রহণ করে রিটার্নের কার্যক্রম নিস্পন্ন করতে পারবেন।
আবার যদি করদাতার ইতিপূর্বে জমাকৃত রিটার্ন এর সম্পদের পরিমাণ এর সাথে চলতি বছরে আয় এবং প্রাপ্তি যোগ করে অতিরিক্ত অংক পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত অতিরিক্ত অংক আয় হিসাবে যোগ করে কর ধার্য্য করবেন।

আয়কর বর্ষ ২০২২-২০২৩এ আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আপনার যা যা প্রয়োজন

 ব্যক্তিগত তথ্য :

1. Photocopy of E-TIN certificate.
2. Photocopy of NID.
3. 1 copy Passport size photo
চাকুরির তথ্য :
1. Salary certificate.
2. Bank statement from 01-07-2021 to 30-06-2022.
3. Provident fund info. (if any)
ব্যবসায়ের তথ্য:
1. ট্রেড লাইসেন্স
2. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী
3. সম্পদ ও দ্বায় বিবরনী
4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট
বিনিয়োগের তথ্য:
1. D.P.S (যদি থাকে)
2. Insurance certificate (যদি থাকে).
3. Share Market Investment (যদি থাকে)
4. (সঞ্চয় পত্র - যদি থাকে)
সম্পদ ও দায় বিবরনীঃ
1. House, Apartment (যদি নিজ নামে থাকে)
2. Land, Car , Furniture , Electronics, etc. (যদি নিজের নামে থাকে)
3. Bank Loan info. (যদি নিজ নামে হয়)
4. Others Lo(যদি নিজ নামে হয়)।

যেসব সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক সেগুলো হলোঃ

 ১. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণের আবেদন করতে

২. কোনো কোম্পানির পরিচালক কিংবা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে
৩. আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ পেতে
৪. সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে
৫. সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রাপ্তি
৬. বীমা বা সার্ভেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্তি বা লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন করতে
৭. সিটি করপোরেশন, জেলা সদরের পৌর এলাকা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি, রেজিস্ট্রেশন, দলিল হস্তান্তর, বায়না বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য ১০ লাখ টাকার বেশি হলে
৮. ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে হলে
৯. চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, খরচ ও ব্যবস্থাপনা হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা যে কোনো পেশাদার সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি
১০. মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্তি
১১. কোনো ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তি
১২. ড্রাগ লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নে
১৩. আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পের জন্য গ্যাস সংযোগ প্রাপ্তি
১৪. ভাড়ায় চালিত লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরা জলযান, ট্রলার, কার্গো, কোস্টার এবং বার্জের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি
১৫. জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইট তৈরির অনুমতি পেতে
১৬. সিটি করপোরেশন বা জেলা সদর পৌরসভায় সন্তান বা পোষ্যকে আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে বা জাতীয় পাঠ্যক্রমের অধীনে ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি করতে
১৭. সিটি করপোরেশন বা সেনানিবাস এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে
১৮. কোনো কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা এজেন্টশিপ পেতে
১৯. অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে
২০. আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খুলতে
২১. ৫ লাখ টাকার বেশি পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে
২২. ১০ লাখ টাকার বেশি ক্রেডিট ব্যালেন্সসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে
২৩. ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে
২৪. পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে
২৫. মোটরগাড়ি, জমি, বাসস্থান বা যে কোনো স্থাবর সম্পদ সংশ্লিষ্ট অংশিদারত্ব ব্যবসা করতে
২৬. কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেওয়ার সময়
২৭. সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা, করপোরেশন থেকে 'বেতন' শিরোনামে মূল বেতন হিসেবে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পাওয়ার সময়
২৮. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপায়ে অর্থ স্থানান্তরে কোনো কমিশন, ফি জাতীয় অর্থ পেতে
২৯. পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ বা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করতে
৩০. সরকারের কাছ থেকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) হিসেবে প্রতি মাসে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পেতে
৩১. বীমা কোম্পানির এজেন্সি হিসেব নিবন্ধন বা পুনর্নবীকরণ করতে
৩২. দুই বা তিন চাকা ছাড়া যে কোনো ধরনের মোটরগাড়ি নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন করতে
৩৩. কোনো এনজিওকে বা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে কোনো মাইক্রো ক্রেডিট সংস্থার কাছে বিদেশি অনুদান ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে
৩৪. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে
৩৫. কোনো ক্লাবের সদস্যপদ পেতে চাইলে
৩৬. পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা প্রদানের জন্য টেন্ডারের কাগজপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে
৩৭. আমদানি বা রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ থেকে বিল অফ এন্ট্রি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে
৩৮. ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে
যে দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান থেকে এসব সেবা নেয়া হবে, সেসব প্রতিষ্ঠান যদি সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র না দেখে সেবা দেয়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।

সঞ্চয় পত্রের সুদ ( Income from Interest on Securities/Sanchaypatra)

 ১/ এ সুদ কোনো আয়ের টেক্স এর সাথে সমন্বয় হবে না।

২/সঞ্চয় পত্র হতে যে আয় করেছেন তার বিপরীতে সুদ উৎসে কর্তন করে নিয়েছে, তা এটা নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না।
৩/ সঞ্চয় পত্রের সুদ ব্যতীত অন্য কোন আয়ের খাত থাকলে তার টেক্স আলাদা হিসেব করবেন, তার পর রেয়াত ষদি পান তা বাদ দিয়ে যদি টেক্স নূন্যতম কর এর কম ও হয়, ( সঞ্চয় পত্রের সুদ ব্যতীত) তাহলে ও নূন্যতম কর দিতে হবে।
৪/ সঞ্চয় পত্রের সুদ ব্যতীত সব খাতের আয় যোগ করে কর নির্ধারন করে, আয়ের সাথে সন্চয় পত্রের আয় যোগ করবেন, আবার সঞ্চয় পত্রের আয় ব্যতীত যে টেক্স নির্ধারণ করেছেন, তার সাথে সন্চয় পত্রের উৎসে কর্তন কৃত কর যোগ করে চূড়ান্ত কর হবে।

চূড়ান্ত করদায় / ৮২ সি ধারায় কর নির্ধারণ পদ্ধতি:

 আয়কর আইন অনুসারে কিছু কিছু পণ্য বিক্রি বা সেবা প্রদানের পরে বিল পরিশোদের সময় উৎসে কর কর্তন করতে হয় । এই উৎসে কর কর্তনের মধ্যে কিছু কিছু কর কর্তন ওই বিক্রেতা বা সেবা প্রদানকারীর চূড়ান্ত কর দায় হিসাবে গণ্য করা হয় অর্থাৎ ওই বিক্রি বা সেবার আয়ের উপর পরবর্তীতে তাকে আর নতুন কোন কর দিতে হবেনা এবং নতুন কোন আয়ও ধার্য করা হবে না, ফলে ইহাই তাহার চূড়ান্ত আয় ও চূড়ান্ত কর ।

চূড়ান্ত করদায় হিসাবে গণ্য হয় এমন কিছু বিক্রি বা সেবা সমুহ নিন্মরুপঃ
১) পণ্য সরবরাহের কাজ বা চুক্তির অধিনে কাজ সম্পাদন করে দেয়া বিলের উপর উৎসে কর কর্তন (ধারা ৫২)
২) কোন প্রপার্টি রেজিঃ এর সময় উৎসে কর কর্তন ( ধারা ৫৩ এইচ )
৩) রিয়েল এস্টেট / ভুমি উন্নয়ন ব্যবসায়, ভুমি / ফ্লাট রেজিঃ এর সময় উৎসে কর কর্তন (ধারা ৫৩ এফ এফ )
৪) নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস ইত্যাদি রফতানি সময় উৎসে কর কর্তন ( ধারা ৫৩ বিবি )
৫) নির্ধারিত কিছু মালামাল আমদানির সময় উৎসে কর কর্তন ( ধারা ৫৩ )
৬) রয়েলিটি, কারিগরি সেবার ফিস ইত্যাদি প্রদানের সময় উৎসে কর কর্তন ( ধারা ৫২ এ (২)
৭) সি অ্যান্ড এফ বিজনেসে প্রাপ্ত কমিশন যাহার উপর উৎসে কর কর্তন ( ধারা ৫২ এএএ )
৮) সম্পদ অধিগ্রহনের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি যাহার উপর উৎসে কর কর্তন ( ধারা ৫২ সি )
৯) পেনশনার সাভিং সার্টিফিকেট, ওয়েজ আর্নার ডেভোলপমেন্ট বন্ডের সুদ হতে উৎসে কর কর্তন(ধারা ৫২ডি)
১০) এছাড়াও ধারা ৫২বি, ৫২এন, ৫২ও, ৫২আর, ৫৩এএ, ৫৩বি, ৫৩বিবিবি, ৫৩সি, ৫৩সিসি, ৫৩ ডিডিডি, ৫৩জি, ৫৩জিজি, ৫৩এম, ৫৩এন, ৫৩ ও এবং ধারা ৫৫ অনুসারে সকল উৎসে কর কর্তন চূড়ান্ত কর দায় হিসাবে গণ্য হবে।
উপরক্ত ধারার আয়সমুহ উৎসে কর্তন করা করের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে এবং এই আয় অন্য খাতের ক্ষতির সাতে সমন্বয় করা যাবে না । এছাড়াও এই কর অন্য খাতের আয়ের উপর আরপিত করের সাতে সমন্বয় করা যাবে না এবং পরবর্তী কর বর্ষে জের টানা যাবেনা বা ফেরত দাবীও করা যাবেনা ।

আপনার এবারের আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে নিচের ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে জমা দিন

 

চাকরি/বেতন খাতে আয়ের তথ্য :
1. সেলারি সার্টিফিকেট ;
2. সেলারির বিপরীতে কর্তনকৃত টিডিএস -এর প্রত্যয়নপত্র;
3. ব্যাংক স্টেটমেন্ট (from 01-07-2021 to 30-06-2022);
4. Provident Fund info/GPF Balance Sheet. (if any) ব্যবসা/পেশা খাতে আয়ের তথ্য:
5. ট্রেড লাইসেন্স;
6. ব্যবসার নামীয় ব্যাংক স্টেটমেন্ট;
7. ব্যবসার নামে লোন থাকলে- লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট;
8. ব্যবসা আয়ের উপর অগ্রীম আয়কর (AIT) বা উৎসে কর কর্তন (TDS) থাকলে অগ্রীম আয়কর বা উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র ও চালানের কপি; 9. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী;
10. মূল্যসহ ব্যবসার সম্পদের তালিকা (Fixture, Furniture, Equipment & Machinarie etc.); বিনিয়োগ ও ব্যাংক ইন্টারেস্ট তথ্য:
11. জীবন বীমা করা থাকলে প্রিমিয়াম প্রদানের রসিদ;
12. ডিপিএস করা থাকলে ডিপিএস স্টেটমেন্ট;
13. পূর্বের কোন ডিপিএস এনক্যাশ বা নগদায়ন করে থাকলে নগদায়ন প্রত্যয়নপত্র বা এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট ;
14. এফডিআর করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ও ইন্টারেস্ট প্রাপ্তির প্রত্যয়নপত্র;
15. শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ থাকলে ব্রোকার হাউস থেকে বিনিয়োগ প্রত্যয়নপত্র ও পোর্টফলিও -র কপি;
16. সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ;
17. সঞ্চয়পত্রের ইন্টারেস্ট প্রাপ্তি ও তার বিপরীতে টিডিএস কর্তনের প্রত্যয়নপত্র; গৃহ-সম্পত্তি হতে আয়ের তথ্য:
18. আপনার বাড়ি/ফ্ল্যাট/দোকান ভাড়া দিয়ে আয় থাকলে ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিন;
19. আপনার বাড়ি/ফ্ল্যাট/দোকান এর পৌর কর বা সিটি কর্পোরেশন কর প্রদানের রসিদ;
20. হাউজ লোন থাকলে- লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট; বৈদেশিক/রেমিট্যান্স আয়ের তথ্য:
21. বৈদেশিক/রেমিট্যান্স আয়ের সপক্ষে ব্যাংক সার্টিফিকেট বা এফএমজে ফরম/বৈদেশিক মুদ্রা ঘোষণা ফরম এর কপি; (মনে রাখবেন, বৈদেশিক আয় করমুক্ত হতে হলে তা আপনার নিজের আয় হতে হবে এবং প্রপার চ্যানেলে আসতে হবে); সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তথ্য:
22. এ বছর আপনার নামে কোন জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি/গাড়ি ক্রয় করে থাকলে তার দলিলের কপি;
23. এ বছর আপনার কোন জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি/গাড়ি বিক্রি করে থাকলে বিক্রয় দলিলের কপি ও উৎসে কর্তনের কপি;
24. বাড়ি/ফ্ল্যাট নির্মাণাধীন থাকলে নির্মাণ বিনিয়োগের পরিমাণ;
25. আপনার নামে গাড়ি থাকলে পারসোনাল ট্যাক্স টোকেনের কপি;
26. আপনার ব্যাংক লোন থাকলে লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট ;
27. ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে বাড়ি নির্মাণকালে সাইনিং মানি পেয়ে থাকলে তার ডকুমেন্ট;
28. ব্যক্তিগত লোন ৫ লাখ টাকার বেশি হলে এর সপক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ;
29. পরিবারের কারো কাছ থেকে কোন দান গ্রহণ করলে বা কাউকে দান করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ; আর টাকা দান হলে তার সপক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ;
30. এছাড়াও আপনার অন্য কোন আয় থাকলে তার ডকুমেন্ট দিন; বি:দ্র: সকল স্টেটমেন্ট/প্রত্যয়নপত্রের সময়কাল হবে ০১/০৭/২০২১ থেকে ৩০/০৬/২০২২ইং পর্যন্ত। অন্যান্য তথ্যাবলি:
31. আপনি এ বছর নতুন করদাতা হলে আপনার এনআইডি-র ফটোকপি, টিআইএন সার্টিফিকেট, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এড্রেস ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি;
32. আপনি পুরাতন করদাতা হলে গত বছরে দাখিলকৃত রিটার্ন এর কপি লাগবে; (গত বছর আমরা কাজ করে থাকলে আমাদের কাছে রিটার্নের কপি আছে) ;
33. আপনার আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও তাদের বয়স।
দৃষ্টি আকর্ষণ: যথাযথ কর পরিগণনার জন্য আপনার সকল কাগজপত্র একত্রে দিন। ১৫ নভেম্বরের পরে দিলে আপনার রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় নেয়া লাগতে পারে। মনে রাখবেন, এবার ৩০ নভেম্বরের পরে রিটার্ন দাখিল করলে আইনানুযায়ী পূর্ণ কর রেয়াত পাবেন না। অর্ধেক রেয়াত পাবেন এবং ২% বিলম্ব ফি দিতে হবে।

ম্যানুয়ালী/অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছি। রিটার্ন দাখিলের পর কিছু ভুল তথ্য/হিসাব দেখতে পাচ্ছি, করণীয় কি?

 

- রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ভুল ধরা পেয়ে থাকলে ৮২বিবি(৫) ধারায় সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যায়। তবে তার পূর্বে রিটার্নটি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে সংশেধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে না।
সংশোধিত রিটার্নটি আপনি প্রযোজ্য সকল সংশোধন করে এর প্রথম পাতার উপর ‘82BB (5) ধারায় ভুল সংশোধনী রিটার্ন ' মার্ক করে এবং প্রতিটি ভুলের প্রকৃতি ও কারণের একটি লিখিত বিবরণ সংযুক্ত করবেন (ছবি সংযুক্ত)। অতিরিক্ত কর পরিশোধ প্রযোজ্য হলে, চালান/পে-অর্ডার মারফত আয়কর পরিশোধ করে তা সংযুক্ত করবেন।
অনলাইনে রিভাইজ রিটার্ন দাখিল করা যায় না। যারা অনলাইনে দাখিলকৃত রিটার্ন এর রিভাইজ রিটার্ন সাবমিট করতে চান, তাঁরা সংশ্লিষ্ট সার্কেলে ম্যানুয়ালী রিভাইজ রিটার্ন জমা দিবেন।

ঠিকাদার সরবরাহকারী ইত্যাদি বিলের উপর উৎসে কর হারঃ

 

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৫২ তে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহ, যথা- পূর্তকাজ, স্থাপনা নির্মাণ, দ্রব্যাদি সরবরাহ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা রূপান্তর, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং ইত্যাদি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তনের নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তিত হার অনুযায়ী ভিত্তি অংকের পরিমাণ ৫০ লক্ষ পর্যন্ত ৩%, ৫০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ০২ কোটি পর্যন্ত ৫%, ০২ কোটি টাকার অধিক ৭% উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
তবে, সিমেন্ট, লোহা ও লৌহজাত পণ্য(এমএস বিলেট ব্যতীত) সরবরাহের ক্ষেত্রে যেকোন পরিমাণ অর্থের উপর উৎসে কর কর্তনের হার হবে ২% এবং এমএস বিলেট সরবরাহের ক্ষেত্রে যেকোন পরিমাণ অর্থের উপর এই হার হবে ০.৫%।

উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ সংক্রান্ত বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থতার_ক্ষেত্রেঃ

 

** সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠান উক্ত করের জন্য খেলাপি করদাতা(Assessee in default) হিসাবে অনাদায়ী সময়ের জন্য( ২৪ মাস) মাসিক ২% হারে অতিরিক্ত অর্থসহ সংশ্লিষ্ট আয়কর পরিশোধ করিবেন (ধারা-৫৭)

** এক বছরের জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রহিয়াছে(ধারা-১৬৪) ।

@সংশ্লিষ্ট বিধিঃ আয়কর বিধিমালার বিধি ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮

@ সংশ্লিষ্ট ধারাঃ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৫২, ৫৭, ৫৮, ৫৯

উৎসে কর্তনের সময়সীমাঃ

    *জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যে মাসে উৎসে কর কর্তন করা হবে তার পরের দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে।

* জুন মাসের ০১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত যেদিন উৎসে কর কর্তন করা হবে তার সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
* জুন মাসের অন্য যে কোন দিন যেদিন উৎসে কর কর্তন করা হবে তার পরের দিন জমা দিতে হবে।
* জুন মাসের শেষ দুই কর্ম দিবসে উৎসে কর কর্তন করেন তাহলে যেদিন কর কর্তন করবেন আপনাকে সেদিনই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

আয়কর কর্তনকারী সংগ্রহকারী ও জমাদানকারী কর্তৃপক্ষঃ

 

নিয়োগকর্তা বা বেতন পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/কর্মকর্তা;
🎈সরকারি দপ্তর সমূহের ক্ষেত্রে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা(ডিডিও) তাঁর নিজের ও অধিনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন পরিশোধকালে;
🎈সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বিধিবদ্ধ কর্পোরেশন এবং এর ইউনিটসমূহ, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ২(২০) ধারায় বর্ণিত সকল প্রকার কোম্পানি, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি, সমবায়, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং এনজিও এফেয়ার্স ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত এনজিও সমূহ
🎈ট্রাস্ট আইনে নিবন্ধিত কোন ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা/প্রধান নির্বাহী
🎈কোম্পানি আইন অনুসারে নিবন্ধিত কোন কোম্পানি
🎈লাইসেন্স ইস্যুকারী/নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ
🎈সুদ/ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ
🎈নিলাম আয়োজনকারী/ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ

উৎসে_আয়কর_কর্তনঃ

 

এ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধকালেই প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। অর্থ পরিশোধের সময়ই এই কর কেটে রাখা হয় তাই এই কর উৎসে কর (Tax Deducted at Source_TDS) হিসেবে পরিচিত। কর্তিত এই কর পরবর্তী আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের সময় অতিরিক্ত আয়কর পরিশোধ করতে হয় অথবা আয়কর প্রত্যর্পণ সৃষ্টি হয়। বেতন ছাড়াও এই কর কমিশন, ব্রোকারেজ, রয়্যালটি পেমেন্ট, চুক্তির ভিত্তিতে পরিশোধ, একাধিক আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কৃত সুদ বা মুনাফা, পেশাগত ফি ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। প্রতি বছর কোন খাতে উৎসে কর কতো তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রকাশ করে থাকে।

করমুক্ত এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়

 সকল আয়েরই কর দিতে হয় না। সরকার বিশেষ কিছু খাতের আয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে সেই সকল আয়কে করমুক্ত এবং কর অব্যাহতির সুবিধা ঘোষণা করেছে। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের কয়েকটি খাত নিচে দেওয়া হলোঃ

(১) সরকারি চাকুরিজীবী করদাতা যদি চাকুরীর দায়িত্ব পালনের জন্য কোন বিশেষ ভাতা, সুবিধা বা আনুতোষিক (perquisite) পান
(২) পেনশন
(৩) অংশীদারী ফার্ম হতে পাওয়া মূলধনী মুনাফার (ফার্ম কর্তৃক কর পরিশোধিত) অংশ
(৪) ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গ্রাচুইটি প্রাপ্তি
(৫) প্রভিডেন্ট ফান্ড (এ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী) থেকে প্রাপ্ত অর্থ
(৬) স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ
(৭) স্বীকৃত সুপারএ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ
(৮) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন) এর আওতাধীন যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত অংশের ৫০,০০০ টাকা অব্যহতি
(৯) মিউচুয়্যাল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় (সুদ, মুনাফা বা ডিভিডেন্ট)
(১০) পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত নগদ লভ্যাংশ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত
(১১) সরকারি নিরাপত্তা জামানতের সুদ যা সরকার করমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে
(১২) রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ী অধিবাসীর দ্বারা এই জেলাগুলোতে পরিচালিত আর্থিক কর্মকান্ডের ফলে প্রাপ্ত আয়
(১৩) আয়কর অধ্যাদেশের আওতায় জারিকৃত কোন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত কর হারের সুবিধা গ্রহণকারী করদাতা ব্যতীত অন্যান্য করদাতার রপ্তানি ব্যবসা হতে প্রাপ্ত আয়ের ৫০%
(১৪) আয়ের একমাত্র উৎস ’কৃষি খাত’ হলে কৃষি খাত হতে আয় ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত
(১৫) সফটওয়ার তৈরিসহ তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি খাতের ব্যবসায় আয়। খাতগুলো সমূহ- (i) Software development; (ii) Software or application customization; (iii) Nationwide Telecommunication Transmission Network (NTTN); (iv) Digital content development and management; (v) Digital animation development; (vi) Website development; (vii) Web site services; (viii) Web listing; (ix) IT process outsourcing; (x) Website hosting; (xi) Digital graphics design; (xii) Digital data entry and processing; (xiii) Digital data analytics; (xiv) Geographic Information Services (GIS); (xv) IT support and software maintenance service; (xvi) Software test lab services; (xvii) Call center service; (xviii) Overseas medical transcription; (xix) Search engine optimization services; (xx) Document conversion, imaging and digital archiving; (xxi) Robotics process outsourcing; (xxii) Cyber security services; (xxiii) Cloud service; (xiv) System Integration; (xv) elearning platform; (xvi) e-book publications; (xvii) Mobile application development service; (xviii) IT Freelancing
(১৬) হাঁস-মুরগীর খামার হতে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘শূন্য’ হারে, পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকা আয়ের উপর ৫% হারে এবং অবশিষ্ট আয়ের উপর ১০% হারে কর প্রদেয় হবে (এসআরও নং-২৫৪-আইন/আয়কর/২০১৫)
(১৭) হাঁস-মুরগী, চিংড়ী ও মাছের হ্যাচারী এবং মৎস্য চাষ হতে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘শূন্য’ হারে পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকা আয়ের উপর ৫% হারে এবং অবশিষ্ট আয়ের উপর ১০% হারে কর প্রদেয় হবে;
(১৮) জিরো কূপন বন্ড থেকে উদ্ধৃত আয়
(১৯) কতিপয় ক্ষেত্র ব্যতীত ব্যক্তি করদাতা কর্তৃক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত কোম্পানির শেয়ার বিক্রয় হতে অর্জিত মূলধনী মুনাফা
(২০) হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানি হতে উদ্ভূত আয়
(২১) পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্রমযোজিত বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদ আয়
(২২) ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার নভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, পাউন্ড স্টারলিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং পাউন্ড স্টারলিং প্রিমিয়াম বন্ড- এই ৭টি বন্ড হতে অর্জিত সুদ আয়কে করমুক্ত করা হয়েছে
(২৩) যেকোন পণ্য প্রস্তুতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এবং বার্ষিক টার্ণওভার ৫০ লক্ষ টাকার অধিক নহে যে কোন Small and Medium Enterprise (SME) হতে এবং নারী উদ্যোক্তার জন্য বার্ষিক টার্নওভার ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
(২৪) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট হতে প্রাপ্ত সম্মানী বা ভাতা কিংবা সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কল্যাণ ভাতা;
(২৫) সরকারের নিকট হতে গৃহীত কোন পদক /পুরস্কার
(২৬) কোন Elderly care home পরিচালনা হতে অর্জিত আয়
(২৭) বাংলাদেশের কোন নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশের বাইরে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা (foreign remittance) আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশে আনয়ন করলে, উক্ত বাংলাদেশী নাগরিকের বিদেশে ‍উপার্জিত আয়।

করমুক্ত আয়সমূহ করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভূক্ত হবে না। এটি করমুক্ত আয়ের কলামে প্রদর্শন করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের সময় ২০২২

 স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাকে Tax Day ( কর দিবস ) এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। ২০২২-২০২৩ করবর্ষের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০২২ তারিখ হচ্ছে কর দিবস, অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ। একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ১ জুলাই ২০২২ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৩ তারিখের মধ্যে ২০২২-২০২৩ করবর্ষের রিটার্ন দাখিল করবেন।

কোন ব্যক্তি যিনি পূর্বে কখন-ই রিটার্ন দাখিল করেননি তার জন্য ৩০ জুন ২০২২ তারিখে সমাপ্ত আয়বর্ষের জন্য করবর্ষ এর সর্বশেষ দিন অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৩ হচ্ছে কর দিবস ( Tax Day )।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব না হলে করদাতা রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নির্ধারিত ফরমে উপযুক্ত কারণ উল্লেখপূর্বক উপ-কর কমিশনারের কাছে সময়ের আবেদন করতে পারেন। সময় মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে সাধারণ অথবা সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির আওতায় রিটার্ন দাখিল করা যাবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করা হলে উপকর কমিশনার বিলম্ব সুদ (delay interest) আরোপ করবেন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা করদাতার জন্য সুবিধাজনক।

কখন কর শুন্য রিটার্ন জমা দিতে পারবেন?

 যদি আপনার মোট করযোগ্য আয় করমুক্ত আয়সীমার নিচে থাকে, তাহলে আপনি আয়কর শুন্য দেখিয়ে রিটার্ন (Zero Tax Return) জমা দিতে পারবেন। এখন দেখে নেওয়া যাক করমুক্ত আয়সীমা কার জন্য কত টাকা?

করদাতার প্রকৃতিকরমুক্ত আয়সীমা (টাকা)
৬৫ বছরের অনুর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতা৩,০০,০০০
৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের পুরুষ করদাতা৩,৫০,০০০
মহিলা করদাতা৩,৫০,০০০
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা৪,৫০,০০০
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা৪,৭৫,০০০
  • প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য রয়েছে এমন পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য ৫০,০০০ টাকা বেশি হবে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা ও মাতা উভয়েই করদাতা হলে যেকোন একজন এই সুবিধা পাবেন।

কখন আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়

 সরকার করজাল সম্প্রসারণ করতে প্রতিনিয়তই করদাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করছে। যারফলে অনেক প্রান্তিক ও ক্ষুদ্রকরদাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছর শেষে রিটার্ন জমার পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু রিটার্ন পূরণ করতে গিয়ে বেশিরভাগ করদাতা সম্পদ ও ব্যয় বিবরণী প্রস্তুতে ভুল করেন এবং রিটার্ন জমা দিয়ে শেষে সমস্যায় পড়েন। তাই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র করদাতাদের সম্পদ ও ব্যয় বিবরণী জমার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী (IT-10B2016) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণী (IT-10BB2016) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে অর্থ আইন ২০২০ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ৮০ ধারা সংশোধনী করে শুধুমাত্র নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হলেও তাদের জন্য আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী (IT-10B2016) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণী (IT-10BB2016) দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:

  • আয় বছরের শেষ তারিখে মোট পরিসম্পদ (gross wealth) এর পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকার অধিক হলে অথবা
  • আয় বছরের শেষ তারিখে মোটর গাড়ি (জীপ বা মাইক্রোবাসসহ) এর মালিকানা থাকলে; অথবা
  • আয় বছরে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোন গৃহ-সম্পত্তি বা এপার্টমেন্টের মালিক অথবা গৃহ-সম্পদ বা এপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে।

তবে রিটার্নে সাথে সম্পদ ও আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দেওয়া উত্তম। অনেক করদাতার বিপুল সম্পদ ও আয় থাকে। কিন্তু ফাঁকি দিতে রিটার্নে  মোট পরিসম্পদ  মূল্য এবং আয় কম দেখান। একসময় তিনি ফ্ল্যাট বা জমি কেনেন, অথবা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সে সময় রিটার্নে সম্পদের উৎসের বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে না বলে তিনি বেকায়দায় পড়েন। কোন করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রথম থেকে সম্পদ ও ব্যয় সঠিকভাবে দেখালে ভবিষ্যতে ঝামেলায় পড়বেন না।


উৎসে আয়কর কর্তনকৃত (TDS) টাকা জমাদানের সময়

 

আয়কর বিধি, ১৯৮৪ এর বিধি ১৩ এ উৎসে আয়কর কর্তনকৃত (TDS) টাকা কতদিনের ভিতর সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

উৎসে আয়কর কর্তন সময়উৎসে আয়কর কর্তনকৃত টাকা জমাদানের সময়
জুলাই-মেযে মাসে উৎস আয়কর কর্তন করা হবে, তার পরের মাসের ২ সপ্তাহের মধ্যে
জুন মাসের প্রথম ২০ দিনউৎসে আয়কর কর্তনর ৭ দিনের মধ্যে
জুন মাসের ২১ থেকে ৩০ তারিখ (শেষের দুই কর্মদিবস বাদে)পরের দিন
জুন মাসের শেষ দুই কর্মদিবসযেদিনে উৎসে আয়কর কর্তন করা হবে সেই দিনে

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কিছু সরকারি ও বেসরকারি সেবাগ্রহণে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৯টি সেবার জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যার ফলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে আগে আয়কর...