শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২

আপনার এবারের আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে নিচের ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করে জমা দিন

 

চাকরি/বেতন খাতে আয়ের তথ্য :
1. সেলারি সার্টিফিকেট ;
2. সেলারির বিপরীতে কর্তনকৃত টিডিএস -এর প্রত্যয়নপত্র;
3. ব্যাংক স্টেটমেন্ট (from 01-07-2021 to 30-06-2022);
4. Provident Fund info/GPF Balance Sheet. (if any) ব্যবসা/পেশা খাতে আয়ের তথ্য:
5. ট্রেড লাইসেন্স;
6. ব্যবসার নামীয় ব্যাংক স্টেটমেন্ট;
7. ব্যবসার নামে লোন থাকলে- লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট;
8. ব্যবসা আয়ের উপর অগ্রীম আয়কর (AIT) বা উৎসে কর কর্তন (TDS) থাকলে অগ্রীম আয়কর বা উৎসে করের প্রত্যয়নপত্র ও চালানের কপি; 9. বার্ষিক ক্রয়-বিক্রয় ও আয় বিবরনী;
10. মূল্যসহ ব্যবসার সম্পদের তালিকা (Fixture, Furniture, Equipment & Machinarie etc.); বিনিয়োগ ও ব্যাংক ইন্টারেস্ট তথ্য:
11. জীবন বীমা করা থাকলে প্রিমিয়াম প্রদানের রসিদ;
12. ডিপিএস করা থাকলে ডিপিএস স্টেটমেন্ট;
13. পূর্বের কোন ডিপিএস এনক্যাশ বা নগদায়ন করে থাকলে নগদায়ন প্রত্যয়নপত্র বা এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট ;
14. এফডিআর করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ও ইন্টারেস্ট প্রাপ্তির প্রত্যয়নপত্র;
15. শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ থাকলে ব্রোকার হাউস থেকে বিনিয়োগ প্রত্যয়নপত্র ও পোর্টফলিও -র কপি;
16. সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ;
17. সঞ্চয়পত্রের ইন্টারেস্ট প্রাপ্তি ও তার বিপরীতে টিডিএস কর্তনের প্রত্যয়নপত্র; গৃহ-সম্পত্তি হতে আয়ের তথ্য:
18. আপনার বাড়ি/ফ্ল্যাট/দোকান ভাড়া দিয়ে আয় থাকলে ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিন;
19. আপনার বাড়ি/ফ্ল্যাট/দোকান এর পৌর কর বা সিটি কর্পোরেশন কর প্রদানের রসিদ;
20. হাউজ লোন থাকলে- লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট; বৈদেশিক/রেমিট্যান্স আয়ের তথ্য:
21. বৈদেশিক/রেমিট্যান্স আয়ের সপক্ষে ব্যাংক সার্টিফিকেট বা এফএমজে ফরম/বৈদেশিক মুদ্রা ঘোষণা ফরম এর কপি; (মনে রাখবেন, বৈদেশিক আয় করমুক্ত হতে হলে তা আপনার নিজের আয় হতে হবে এবং প্রপার চ্যানেলে আসতে হবে); সম্পদ ও দায় সংক্রান্ত তথ্য:
22. এ বছর আপনার নামে কোন জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি/গাড়ি ক্রয় করে থাকলে তার দলিলের কপি;
23. এ বছর আপনার কোন জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি/গাড়ি বিক্রি করে থাকলে বিক্রয় দলিলের কপি ও উৎসে কর্তনের কপি;
24. বাড়ি/ফ্ল্যাট নির্মাণাধীন থাকলে নির্মাণ বিনিয়োগের পরিমাণ;
25. আপনার নামে গাড়ি থাকলে পারসোনাল ট্যাক্স টোকেনের কপি;
26. আপনার ব্যাংক লোন থাকলে লোন আউটস্ট্যান্ডিং সার্টিফিকেট ;
27. ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে বাড়ি নির্মাণকালে সাইনিং মানি পেয়ে থাকলে তার ডকুমেন্ট;
28. ব্যক্তিগত লোন ৫ লাখ টাকার বেশি হলে এর সপক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ;
29. পরিবারের কারো কাছ থেকে কোন দান গ্রহণ করলে বা কাউকে দান করে থাকলে তার ডকুমেন্ট ; আর টাকা দান হলে তার সপক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট ;
30. এছাড়াও আপনার অন্য কোন আয় থাকলে তার ডকুমেন্ট দিন; বি:দ্র: সকল স্টেটমেন্ট/প্রত্যয়নপত্রের সময়কাল হবে ০১/০৭/২০২১ থেকে ৩০/০৬/২০২২ইং পর্যন্ত। অন্যান্য তথ্যাবলি:
31. আপনি এ বছর নতুন করদাতা হলে আপনার এনআইডি-র ফটোকপি, টিআইএন সার্টিফিকেট, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এড্রেস ও এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি;
32. আপনি পুরাতন করদাতা হলে গত বছরে দাখিলকৃত রিটার্ন এর কপি লাগবে; (গত বছর আমরা কাজ করে থাকলে আমাদের কাছে রিটার্নের কপি আছে) ;
33. আপনার আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও তাদের বয়স।
দৃষ্টি আকর্ষণ: যথাযথ কর পরিগণনার জন্য আপনার সকল কাগজপত্র একত্রে দিন। ১৫ নভেম্বরের পরে দিলে আপনার রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় নেয়া লাগতে পারে। মনে রাখবেন, এবার ৩০ নভেম্বরের পরে রিটার্ন দাখিল করলে আইনানুযায়ী পূর্ণ কর রেয়াত পাবেন না। অর্ধেক রেয়াত পাবেন এবং ২% বিলম্ব ফি দিতে হবে।

ম্যানুয়ালী/অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছি। রিটার্ন দাখিলের পর কিছু ভুল তথ্য/হিসাব দেখতে পাচ্ছি, করণীয় কি?

 

- রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ভুল ধরা পেয়ে থাকলে ৮২বিবি(৫) ধারায় সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যায়। তবে তার পূর্বে রিটার্নটি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে সংশেধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে না।
সংশোধিত রিটার্নটি আপনি প্রযোজ্য সকল সংশোধন করে এর প্রথম পাতার উপর ‘82BB (5) ধারায় ভুল সংশোধনী রিটার্ন ' মার্ক করে এবং প্রতিটি ভুলের প্রকৃতি ও কারণের একটি লিখিত বিবরণ সংযুক্ত করবেন (ছবি সংযুক্ত)। অতিরিক্ত কর পরিশোধ প্রযোজ্য হলে, চালান/পে-অর্ডার মারফত আয়কর পরিশোধ করে তা সংযুক্ত করবেন।
অনলাইনে রিভাইজ রিটার্ন দাখিল করা যায় না। যারা অনলাইনে দাখিলকৃত রিটার্ন এর রিভাইজ রিটার্ন সাবমিট করতে চান, তাঁরা সংশ্লিষ্ট সার্কেলে ম্যানুয়ালী রিভাইজ রিটার্ন জমা দিবেন।

ঠিকাদার সরবরাহকারী ইত্যাদি বিলের উপর উৎসে কর হারঃ

 

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৫২ তে বর্ণিত ক্ষেত্রসমূহ, যথা- পূর্তকাজ, স্থাপনা নির্মাণ, দ্রব্যাদি সরবরাহ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা রূপান্তর, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং ইত্যাদি কাজের জন্য উৎসে কর কর্তনের নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবর্তিত হার অনুযায়ী ভিত্তি অংকের পরিমাণ ৫০ লক্ষ পর্যন্ত ৩%, ৫০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ০২ কোটি পর্যন্ত ৫%, ০২ কোটি টাকার অধিক ৭% উৎসে কর কর্তন করতে হবে।
তবে, সিমেন্ট, লোহা ও লৌহজাত পণ্য(এমএস বিলেট ব্যতীত) সরবরাহের ক্ষেত্রে যেকোন পরিমাণ অর্থের উপর উৎসে কর কর্তনের হার হবে ২% এবং এমএস বিলেট সরবরাহের ক্ষেত্রে যেকোন পরিমাণ অর্থের উপর এই হার হবে ০.৫%।

উৎসে কর কর্তন/সংগ্রহ সংক্রান্ত বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থতার_ক্ষেত্রেঃ

 

** সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠান উক্ত করের জন্য খেলাপি করদাতা(Assessee in default) হিসাবে অনাদায়ী সময়ের জন্য( ২৪ মাস) মাসিক ২% হারে অতিরিক্ত অর্থসহ সংশ্লিষ্ট আয়কর পরিশোধ করিবেন (ধারা-৫৭)

** এক বছরের জেল বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রহিয়াছে(ধারা-১৬৪) ।

@সংশ্লিষ্ট বিধিঃ আয়কর বিধিমালার বিধি ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮

@ সংশ্লিষ্ট ধারাঃ আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৫২, ৫৭, ৫৮, ৫৯

উৎসে কর্তনের সময়সীমাঃ

    *জুলাই থেকে মে পর্যন্ত যে মাসে উৎসে কর কর্তন করা হবে তার পরের দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে।

* জুন মাসের ০১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত যেদিন উৎসে কর কর্তন করা হবে তার সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
* জুন মাসের অন্য যে কোন দিন যেদিন উৎসে কর কর্তন করা হবে তার পরের দিন জমা দিতে হবে।
* জুন মাসের শেষ দুই কর্ম দিবসে উৎসে কর কর্তন করেন তাহলে যেদিন কর কর্তন করবেন আপনাকে সেদিনই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

আয়কর কর্তনকারী সংগ্রহকারী ও জমাদানকারী কর্তৃপক্ষঃ

 

নিয়োগকর্তা বা বেতন পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/কর্মকর্তা;
🎈সরকারি দপ্তর সমূহের ক্ষেত্রে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা(ডিডিও) তাঁর নিজের ও অধিনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন পরিশোধকালে;
🎈সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বিধিবদ্ধ কর্পোরেশন এবং এর ইউনিটসমূহ, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ২(২০) ধারায় বর্ণিত সকল প্রকার কোম্পানি, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানি, সমবায়, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং এনজিও এফেয়ার্স ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত এনজিও সমূহ
🎈ট্রাস্ট আইনে নিবন্ধিত কোন ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা/প্রধান নির্বাহী
🎈কোম্পানি আইন অনুসারে নিবন্ধিত কোন কোম্পানি
🎈লাইসেন্স ইস্যুকারী/নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ
🎈সুদ/ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ
🎈নিলাম আয়োজনকারী/ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ

উৎসে_আয়কর_কর্তনঃ

 

এ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধকালেই প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। অর্থ পরিশোধের সময়ই এই কর কেটে রাখা হয় তাই এই কর উৎসে কর (Tax Deducted at Source_TDS) হিসেবে পরিচিত। কর্তিত এই কর পরবর্তী আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের সময় অতিরিক্ত আয়কর পরিশোধ করতে হয় অথবা আয়কর প্রত্যর্পণ সৃষ্টি হয়। বেতন ছাড়াও এই কর কমিশন, ব্রোকারেজ, রয়্যালটি পেমেন্ট, চুক্তির ভিত্তিতে পরিশোধ, একাধিক আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কৃত সুদ বা মুনাফা, পেশাগত ফি ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। প্রতি বছর কোন খাতে উৎসে কর কতো তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রকাশ করে থাকে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কিছু সরকারি ও বেসরকারি সেবাগ্রহণে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৯টি সেবার জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যার ফলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে আগে আয়কর...