রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১

আপনার আয়কর রিটার্ন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যঃ

 (ক) আয়কর রিটার্নঃ

আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্হাপন করার মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর রিটার্ন ফরম এর কাঠামো আয়কর বিধি দ্বারা নির্দিষ্ট করা আছে। আয়কর আইন অনুযায়ী আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

খ) আয়কর রিটার্ন দাখিল করা কাদের জন্য বাধ্যতামূলকঃ
কারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তা দুই ভাবে চিহ্নিত করা যায়, যথাঃ-
(i) যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে; এবং
(ii) যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
(i) করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে যাদেরকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে-
১. কোন ব্যক্তি করদাতার (Individual) আয় যদি বছরে ৩,০০,০০০/- টাকার বেশী হয় তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
২. তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা, মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে ৩,৫০,০০০/- টাকার বেশী হয় তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
৩. প্রতিবন্ধী করদাতার আয় যদি বছরে ৪,৫০,০০০/- টাকার বেশী হয় তবে তাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
৪. গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৪,৭৫,০০০/- টাকার বেশী হয় তাহলে তাঁকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
(ii) যাদেরকে আবশ্যিকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে-
১. যিনি ১২ ডিজিটের টিআইএন গ্রহণ করেছেন;
২. করদাতার মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে;
৩. আয় বছরের পূর্ববর্তী ৩ বছরের যে কোন বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকে বা তার আয় করযোগ্য হয়ে থাকে;
৪. করদাতা যদি কোন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার employee হন;
৫. করদাতার যদি কোন ফার্মের অংশীদার হন;
৬. করদাতা যদি সরকার অথবা সরকারের কোন কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন, সত্ত্বা বা ইউনিটের বা প্রচলিত কোন আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোন কর্পোরেশন, সত্ত্বা বা ইউনিটের কর্মচারী (employee) হয়ে আয় বছরের যে কোন পরিমাণ ১৬,০০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব পরিমাণ মূল বেতন আহরণ করে থাকেন;
৭. করদাতা যদি কোন ব্যবসায় বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্হাপনা পদে (যে নামেই অভিহিত হোক না হোক) বেতনভোগী কর্মী (employee) হন;
৮. করদাতার আয় কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য হয়ে থাকে;
৯. করদাতা যদি মোটর গাড়ীর মালিক হন (মোটর গাড়ী বলতে জীপ বা মাইক্রোবাসকেও বুঝাবে);
১০. করদাতা যদি কোন সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোন ব্যবসা বা পেশা পরিচালনা;
১১. করদাতার যদি মূল্য সংযোজন কর আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন ক্লাবের সদস্যপদ থাকে;
১২. করদাতা যদি চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্হপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোন স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্হার নিবন্ধিত হন;
১৩. করদাতা যদি আয়কর পেশাজীবী (Income Tax Practitioner) হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিবন্ধিত হন;
১৪. করদাতা যদি কোন বণিক বা শিল্প বিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্হার সদস্য হন;
১৫. করদাতা যদি কোন পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কোন পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন;
১৬. করদাতা যদি কোন সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত সংস্হা বা কোন স্হানীয় সরকারের কোন টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন;
১৭. করদাতা যদি কোন কোম্পানীর বা কোন গ্রুপ অব কোম্পানীজের পরিচালনা পর্ষদে থাকেন;
১৮. করদাতা যদি মটরযান, স্পেস/স্হান, বাসস্থান অথবা অন্যান্য সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে শেয়ারড ইকোনমিক এক্টিভিটিজে অংশগ্রহণ করেন;
১৯. করদাতা যদি লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মালিক হন;
২০. সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে মোট বিনিয়োগ দুই লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে;
২১. দুই লক্ষ টাকার অধিক পোস্টাল সঞ্চয় হিসাব খুলতে; এবং
২২. সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রেশনে।
রিটার্ন দাখিল করার ধারাঃ
আয়কর অধ্যাদেশে ১৯৮৪ এর ধারা ৭৫ রিটার্ন দাখিল সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত রয়েছে।
(গ) যাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়ঃ
নিম্নোক্ত Person এর জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক (Mandatory) হবে না-
১. সরকারের Monthly Payment Order (MPO) এর অধীনে সুবিধা প্রাপ্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান;
২. কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. কোন ফান্ড;
৪. কোন Class of Persons যাদেরকে অফিসিয়াল গেজেটে আদেশ জারীর মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল থেকে বোর্ড অব্যাহতি প্রদান করেছে।
৫. বাংলাদেশে ফিক্সড বেজ নেই এমন অনিবাসীকে;
৬. জমি বিক্রয়ের জন্য ১২ ডিজিটের টিআইএন গ্রহণ করেছেন কিন্তু করযোগ্য আয় নেই;
৭. ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের জন্য ১২ ডিজিটের টিআইএন গ্রহণ করেছেন কিন্তু করযোগ্য আয় নেই।
ঘ) রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি কয়টি ও কি কিঃ
বর্তমানে রিটার্ন দাখিলের জন্য ২টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।
যথাঃ
(১) সাধারণ পদ্ধতি; ও
(২) সর্বজনীন পদ্ধতি
(ঙ) আয়কর রিটার্নের সাথে কি কি বিবরণী ও তথ্য উপস্হাপন করতে হয়ঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫ ধারার উপধারা (3) এর ক্লজ (a) তে বিধান করা হয়েছে যে আয়ের রিটার্নটি বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে প্রযোজ্য সকল বিবরণ ও তথ্য সন্নিবেশ করে দাখিল করতে হবে। রিটার্নের সাথে প্রযোজ্য সকল তফসিল, বিবরণী, হিসাব, সংযোজনী ও দলিলাদিও দাখিল করতে হবে।
(চ) আয়কর রিটার্ন কি স্বাক্ষরযুক্ত হতে হয় এবং আয়কর রিটার্নে কে স্বাক্ষর করতে পারেনঃ
আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৭৫ এর উপধারা (৩) (খ) অনুযায়ী-
(খ) প্রতিপাদিত এবং স্বাক্ষরযুক্ত হবে-
(i) ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে স্বয়ং ঐ ব্যক্তি কর্তৃক যেক্ষেত্রে ব্যক্তি বাংলাদেশে অনুপস্হিত সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির পক্ষে নিয়োজিত ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক এবং যেক্ষেত্রে এরুপ ব্যক্তি মানসিকভাবে তার স্বাভাবিক কাজ চালাতে অক্ষম সেক্ষেত্রে তার অভিভাবক কর্তৃক অথবা তার পক্ষে আইনতঃ কার্যক্ষম যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক;
(ii) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে কর্তা কর্তৃক এবং যেক্ষেত্রে কর্তা বাংলাদেশে অনুপস্হিত অথবা মানসিকভাবে তার স্বাভাবিক কাজ চালাতে অক্ষম সেক্ষেত্রে ঐ পরিবারের অন্য কোন প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্য কর্তৃক;
(iii) কোম্পানী অথবা স্হানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে মূখ্য কর্মকর্তা কর্তৃক;
(iv) ফার্মের ক্ষেত্রে নাবালক ব্যতীত যে কোন অংশীদার কর্তৃক;
(v) কোন এসোসিয়েশনের ক্ষেত্রে, এসোসিয়েশনের যে কোন সদস্য অথবা মূখ্য কর্মকর্তা কর্তৃক; এবং
(iv) অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি কর্তৃক অথবা তার পক্ষে আইনত কাজ করতে সক্ষম ব্যক্তি কর্তৃক।
(ছ) করদাতার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা কিঃ
কোম্পানীর ক্ষেত্রেঃ
পরবর্তী আয় বৎসরের ১৫ই জানুয়ারী তারিখের মধ্যে অথবা যেক্ষেত্রে আয় বৎসর শেষ হওয়ার ছয় মাসের পূর্বেই ১৫ই জুলাই আসে সেক্ষেত্রে ছয় মাস উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
অন্যান্য করদাতার ক্ষেত্রেঃ
অন্য সকল ক্ষেত্রে পরবর্তী আয় বৎসরের নভেম্বর ৩০তম দিনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, একজন সরকারী কর্মকর্তা বিদেশে উচ্চ শিক্ষারত আছেন অথবা প্রত্যাবর্তনের অধিকারে বাংলাদেশের বাইরে কর্মরত আছেন, তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে ঐরুপ বিদেশে বা প্রত্যাবর্তনের অধিকার চর্চার মেয়াদ এর দলিল দাখিল করবেন।
(জ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ কতঃ
কোন করদাতা আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫ ধারা অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে তার উপর আয়কর অধ্যাদেশের ১২৪ ধারা অনুযায়ী জরিমানা-
করদাতা যদি ধারা-৭৫, ৭৭ ও ৮৯ (২), ৯১ (৩) বা ৯৩ (১) অনুযায়ী এবং অথবা ৭৫এ ধারার অধীনে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য যথাসময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করেন তাহা হইলে খেলাপী করদাতার সর্বশেষ আরোপিত আয়করের ১০% অথবা ১,০০০/- টাকা ও পরবর্তী প্রতি খেলাপী দিবসের জন্য ৫০/- টাকা, এ দুটির মধ্যে যেটি বেশী, উপ-কর কমিশনার কর্তৃক তাহা জরিমানা আরোপ করিতে পারেন।
৭৩ ধারা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত সরল সুদ এবং ৭৩এ ধারা অনুযায়ী বিলম্ব সুদ (delay interest) আরোপযোগ্য হবে। যে ক্ষেত্রে করদাতা রিটার্ন দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করে উপ কর কমিশনার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করবেন, সে ক্ষেত্রে করদাতার উপর জরিমানা আরোপিত হবে না, তবে অতিরিক্ত সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ আরোপিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১

সমস্যা- আয়কর রিটার্নের হিসাব না মিললে কি হয়? অর্থাৎ পুরাতন ফরমে আইটি১০বি ক্রমিক-১৮ এবং নতুন ফরমে আইটি ১০বি ২১৬ ক্রমিক -২২ শূন্য না হলে কি হয়? আয়কর হিসাব কিভাবে মিলাব?

প্রথমেই একটা উদাহরন দিয়ে শুরু করি, মনে করেন আপনি কোন দিন ১২০ টাকা আয় করলেন, দিন শেষে খরচ করলেন ৮০ টাকা, আপনার হাতে কত থাকবে?? আপনি যদি বলেন হাতে ৬০ টাকা রয়েছে। তাহলে কি ঠিক হলো?? অর্থাৎ আপনার আয় হিসাব করতে আপনি ভুল করেছেন। অন্য কোথাও থেকে আপনি ২০ টাকা আয় করেছেন। যা আপনার হিসাবে আনেন নাই। অর্থাৎ আপনার আয় ছিল ১৪০ টাকা আর খরচ ছিল ৮০ টাকা এবং হাতে ছিল ৬০ টাকা।

এক্ষেত্রে, আয়কর অফিস আপত্তি দিবে, আপনার মোট আয় ১৪০ টাকা ছিল। আপনি ১২০ টাকার উপর কর দিয়েছেন, অতিরিক্ত ২০ টাকা আয়ের উপর কোন কর দেন নি। আয়কর অফিস আপনার ২০টাকা উপর অপরিশোধিত কর আরোপ করে নোটিশ জারী করবে।
আবার একই ভাবে মনে করেন আপনি কোন দিন ১২০ টাকা আয় করলেন, দিন শেষে খরচ করলেন ৮০ টাকা, আপনার হাতে কত থাকবে?? আপনি যদি বলেন হাতে ৩০ টাকা রয়েছে। তাহলে কি ঠিক হলো?? অর্থাৎ আপনার ব্যয় হিসাব করতে আপনি ভুল করেছেন। অর্থাৎ আপনি আরও ১০ টাকা কোথাও খরচ করেছেন যা আপনার ব্যয়ে আনেননি। অর্থাৎ আপনার আয় ছিল ১২০ টাকা আর খরচ ছিল ৯০ টাকা এবং হাতে ছিল ৩০ টাকা।
এক্ষেত্রে, আয়কর অফিস কোন আপত্তি দিবে না, কারণ আপনি অতিরিক্ত আয় করেন নাই। আপনার আয় ১২০ টাকা ছিল। পুরো টাকারই কর পরিশোধ করেছেন। শুধু খরচ কম দেখিয়েছেন। যে ১০ টাকা ঘাটতি ছিল তা আপনার খরচ হিসাবে বিবেচিত। এক্ষেত্রে আয়কর অফিস আপনাকে কোন নোটিশ জারী করবে না বা আপত্তি দিবে না।
হিসাব যাহাই হোক পুরাতন ফরমে-১৮ এবং নতুন ফরমে-২২ এর মান অবশ্যই শূন্য হতে হবে। নচেৎ আপনার হিসাব ভুল বলে বিবেচিত হবে।
#Tax_zero

যারা প্রথমবার অনলাইন আয়কর রিটার্ন জমা দিবেন,

প্রথম আয়কর রিটার্নে কি কি দেখাতে হবে? অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, সম্পদ কম দেখাতে হবে, অথবা আগের সঞ্চয়পত্র দেখালে আয়কর বেশি দিতে হবে ইত্যাদি। অনেকেই আমাদের কাছে বলেন যে ভুল করে প্রথম রিটার্নে জমি দেখান নি, বিভিন্ন অতীত বিনিয়োগ দেখান নি এখন কি করবেন?

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য, প্রথমবার যারা অনলাইন আয়কর রিটার্ন দিবেন তারা অবশ্যই তাদের অতীত সম্পদ এবং সঞ্চয় দেখিয়ে দিবেন। কিছু কম দেখালেও আপনি সমস্যায় পড়বেন আবার কিছু বেশি দেখাতে গেলেও আপনার বিপদ হতে পারে। তাই, আপনার যা আছে আপনি তাই দেখাবেন।
প্রথমবার অনলাইন আয়কর রিটার্নে অবশ্যই নিচের কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন।
১। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনার নিজের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করবেন অবশ্যই বায়োমেট্রিক করা থাকতে হবে।
২। লেপটপ বা ডেক্সটপ পিসি ব্যবহার করবেন।
৩। আগে থেকে ড্রাফট রিটার্ন করে থাকলে খুব ভাল হয়।
৪। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে কাজ করবেন। (যদিও এখন ডকুমেন্ট সংযুক্ত করা লাগে না)
৫। আপনার আয়সমূহ সঠিক ভাবে ইনপুট দিবেন।
৬। আপনার হাতে অর্থাৎ বাসায় যত টাকাই নগদ থাকুক না কেন, সেটা দেখিয়ে দিবেন।
৭। আপনার অতীতে কোন বিনিয়োগ যেমন- সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা স্থায়ী আমানত থাকলে সেটা দেখিয়ে দিবেন।
৮। আপনার নামে যেকোনো জমি বা ফ্লাট (পৈতৃক সম্পত্তি বা নিজের কেনা) থাকলে সেটি দেখিয়ে দিবেন।
৯। আপনার নামে কোন গাড়ি, মোটর বাইক বা যেকোনো সম্পদ থাকলে সেটি দেখিয়ে দিবেন ।
১০। আপনার কাছে যে পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, সেটি দেখিয়ে দিবেন।
উপরে উল্লিখিত যেকোনো সম্পদ যদি আপনার কাছে থাকে, তাহলে সেটি দেখাবার পাশাপাশি অবশ্যই তার আয়ের উৎস ব্যখ্যা করে দিবেন এবং তার স্বপক্ষে যথার্থ প্রমাণ সংযুক্ত করে দিবেন। সবকিছু ঠিকঠাক মত হলে রিটার্ন সাবমিট করুন। রিটার্ন সাবমিটের সাথে সাথে সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।
 #tax #etax#etaxreturn#etaxnbr

#incometax#taxdoc#আয়কর রিটার্ন দেবার জন্য যে সব কাগজ প্রয়োজন তা হলো :

১) আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ

২) ১ কপি ছবি (৪ বছর পর প্রতি ৫ তম বছরে)
৩) চাকুরিজীবী হলে বেতন বিবরনী।
৪) ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, বীমা, শেয়ার/ ডিভেঞ্চার এবংঅন্য কোথাও অর্থ গচ্ছিত থাকলে (সরকার অনুমোদিত) তার ডকুমেন্ট। গত অর্থ বছরে মোট বিনিয়োগ।
৪) ব্যাংক বিবরনী।
৫) জমি জমা থাকলে তার বিবরনী।
৬) মোটর সাইকেল ব্যতিত অন্য কোনো ভারী যান থাকলে ডকুমেন্ট। (এই ক্ষেত্রে জীপ ও মাইক্রবাস)
৭) অগ্রিম কর বা উতসে কর কাটলে তার ডকুমেন্ট যেমনঃ সঞ্চয় পত্র হতে প্রাপ্ত লাভ এর কর, উহার ডকুমেন্ট।
৮) চালান/ পে অডার/ ব্যাংক ড্রাফট/ ক্রস চেক(আপনার সার্কেল অনুযায়ী)
৯) TIN এর ফটোকপি
১০) NID এর ফটোকপি
১১) ৫ লাখ টাকার উপরে টাকা লেনদেন করলে ব্যাংক চেনেলের মাধ্যমে করতে হবে, তার ডকুমেন্ট
১২) ব্যাংক লোন থাকলে উহার ডকুমেন্ট

#vat#ভ্যাট আইনে "বৃদ্ধিকারী সমন্বয়"

মূলত বৃদ্ধিকারী সমন্বয় হলো কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি তার মূসক দাখিলপত্রে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদে কত ভ্যাট হয়েছে তা হিসেব করবে৷ এরপর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রদেয় ভ্যাটের সাথে বৃদ্ধিকারী সমন্বয় বা হ্রাসকারী সমন্বয় করবে। প্রদেয় ভ্যাট এর সাথে যোগ করাকে বৃদ্ধিকারী সমন্বয় এবং প্রদেয় ভ্যাট থেকে বিয়োগ করাকে হ্রাসকারী সমন্বয় বলে।

এই ক্ষেত্রে কি কি বিষয় সমন্বয় হবে তা ধারা -২(৭২) এ উল্লেখ করা হয়েছে।
[ধারা-২(৭২)] অনুযায়ী,
‘বৃদ্ধিকারী সমন্বয়’ অর্থ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্র গুলো বর্ণনা করা হলোঃ
১. উৎসে কর্তিত করের বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
২. বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়নের ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৩. ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ না করিবার ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৪. ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত (private use) পণ্যের ক্ষেত্রে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৫. নিবন্ধিত হওয়ার পর বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৬. নিবন্ধন বাতিলের কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৭. মূসক হার পরিবর্তিত হওয়ার কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৮. পূর্ববর্তী যে কোন কর মেয়াদে কম পরিশোধিত মূসকের বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
৯. সুদ, জরিমানা, অর্থদণ্ড, ফি, বকেয়া কর ইত্যাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বৃদ্ধিকারী সমন্বয়
১০. নির্ধারিত অন্য কোন বৃদ্ধিকারী সমন্বয়।

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

#VAT#বায়িং হাউজ সেবার সরবরাহ "শূন্যহার"

 

রপ্তানির প্রচলিত বিধান (যেমন-বৈদেশিক মুদ্রায় পণ্য/সেবা সরবরাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন ইত্যাদি) পরিপালন করা হলে সেক্ষেত্রে বায়িং হাউজ সেবার সরবরাহ "শূন্যহার" বিশিষ্ট হবে।
সেক্ষেত্রে , পণ্য রপ্তানির উদ্দেশ্য স্থাপিত রপ্তানি এলসির রপ্তানিমূল্যের সাথে বায়িং হাউজ কমিশন আলাদা ও প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তবে রপ্তানি এলসিতে উল্লিখিত রপ্তানিমূল্যের সহিত আলাদাভাবে বায়িং হাউজ কমিশন উল্লেখ না থাকলে পরবর্তীতে বাংলাদেশী রপ্তানিকারক বায়িং হাউজকে তা পরিশোধ করলে (রপ্তানি এলসিতে ক্লজ হিসাবে থাকলেও রপ্তানিমূল্যের অতিরিক্ত অর্থ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকলে) তাতে মূসক প্রযোজ্য হবে!

শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১

#(Land)জমি ক্রয়ের আগে ক্রেতার করণীয়:

 


১। নাবালকের সম্পত্তি কিনা অবশ্যই যাচাই করে নিন। নাবালকের সম্পত্তি মা হলে আদালতের অনুমতি পত্র ছাড়া ক্রয় করলে ভবিষ্যতে নাবালক যদি মামলা করে তাহলে আপনি জমি হারাবেন।

২। সম্পত্তিতে বিক্রেতার দখল আছে কি না নির্ণয় করার জন্য আশেপাশের জমি ওয়ালাদের কাছে খবর নিন যে, এই জমির প্রকৃত দখলদার কে ?

৩। হাল রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ান ও দাগ নম্বর সঠিক আছে কি না ভালো করে দেখে নিন।

৪। হাল রেকর্ড ও সাবেক রেকর্ড এর মধ্যে মিল রয়েছে কি না ভালো করে যাচাই করুন।

৫। হিস্যা মোতাবেক বিক্রেতার প্রাপ্য অংশ সঠিক আছে কি না যাচাই করে নিন তা না হলে ভবিষ্যতে মামলা-মোকদ্দমার সম্মুখীন হতে পারেন।

৬। রেন্ট সার্টিফিকেট মামলায় জড়িত সম্পত্তি কি না যাচাই করে নিন।

৭। হাল সন পর্যন্ত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ আছে কি না যাচাই করে নিন।

৮। বিক্রেতার নামে নামজারি করা আছে কি না যাচাই করে নিন।

৯। অর্পিত/পরিত্যক্ত/অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি কি না যাচাই করে নিন।

১০। সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি কি না যাচাই করে নিন।

১১। নৃ-তাত্ত্বিক জাতি গোষ্ঠীর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের “বিক্রয় অনুমতিপত্র” আছে কি না যাচাই করে নিন।

১২। খাস জমি কি না যাচাই করে নিন।

১৩। বিক্রিত জমিতে সরকারি কোন স্বার্থ জড়িত আছে কি না যাচাই করে নিন।

১৪। সর্বসাধারণের ব্যবহার্য বা পাবলিক ইজমেন্ট সম্পত্তি কি না যাচাই করে নিন।

১৫। বিক্রেতার মালিকানা সঠিক আছে কি না
নির্ণয় করতে হবে। দলিল নাম্বার নিয়ে ভূমি অফিস অথবা তহসিল অফিসে খবর নিলে প্রকৃত মালিক জানতে পারবেন। জমির আশেপাশে যাদের জমি আছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে জমির মালিকানা বিষয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।

১৬। নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আইনগত অভিভাবক বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক নির্ধারণ করা আছে কি না যাচাই করে নিন।

১৭। বিক্রেতা সম্পত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য হইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা দলিল আছে কি না যাচাই করে নিন।
 
১৮। হিন্দু কন্যা সন্তান/বিধবা স্ত্রী এর “জীবন স্বত্ব” শর্তে প্রাপ্য সম্পত্তি কি না?

১৯। সম্পত্তি বিক্রয়/হস্তান্তর এর ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে কি না?

২০। সমর্পিত বা বিক্রেতার ৬০/১০০ বিঘা সিলিং বহির্ভূত সম্পত্তি কি না?

২১। নকশা মোতাবেক জমির অবস্থান ও পরিমাণ সঠিক আছে কি না যাচাই করে নিন।

২২। দলিলে বর্ণিত তফসিল অনুযায়ী রেকর্ড সঠিক আছে কি না?

২৩। সম্পত্তি বন্ধক দেয়া আছে কি না?

২৪। বিক্রেতা বায়না বা বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করেছেন কি না? 

২৫। বিক্রেতার প্রদর্শিত খতিয়ান ও দলিল সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে রক্ষিত রেকর্ডপত্রের সাথে মিল আছে কি না?
 
২৬। বিক্রেতা তফসিল বর্নিত সম্পত্তি ইতি পূর্বে অন্য কারো নিকট বিক্রয় বা হস্তান্তর করেছে কি না?

২৭। জমির মূল্য বাজার মূল্য থেকে যদি কম হয়ে থাকে  তার কারন নির্ধারণ করে তারপর ক্রয় করুন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কিছু সরকারি ও বেসরকারি সেবাগ্রহণে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৩৯টি সেবার জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, যার ফলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে আগে আয়কর...